অবৈধ অভিবাসীদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অসহযোগিতার অভিযোগে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) নাগরিকদের ওপর ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। স্থানীয় সময় শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়।নতুন এই বিধিনিষেধের ফলে ডিআর কঙ্গোর সরকারি কর্মকর্তা, ভিআইপি এবং নীতিনির্ধারকরা যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আর বিশেষ ভিসা সুবিধা পাবেন না।
এছাড়া দেশটির সাধারণ নাগরিকদের জন্যও দ্রুত ভিসা প্রসেসিং বা ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ সুবিধা বাতিল করা হয়েছে।ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অভিবাসী ফেরত নেওয়ার বিষয়ে ডিআর কঙ্গো যদি দ্রুত তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করে এবং যথাযথ সহযোগিতা না করে, তবে ভবিষ্যতে তাদের জন্য ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার মতো আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এর আগে গত নভেম্বরে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ডিআর কঙ্গোসহ অ্যাঙ্গোলা ও নামিবিয়াকে সতর্ক করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, অবৈধ অভিবাসী ও অপরাধীদের ফেরত নিতে সম্মত না হলে এই দেশগুলোর ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।
ব্রিটিশ সরকারের অভিযোগ, এই দেশগুলো তাদের নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরিতে বাধা দিচ্ছে।তবে যুক্তরাজ্যের এই হুঁশিয়ারির পর অ্যাঙ্গোলা ও নামিবিয়া অভিবাসী ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। ফলে তাদের ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি।
কিন্তু ডিআর কঙ্গোর পক্ষ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা না পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো।যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, “আমি সহযোগিতার জন্য অ্যাঙ্গোলা ও নামিবিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। এখন ডিআর কঙ্গোর উচিত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া। নিজেদের নাগরিকদের ফেরত নিন, অন্যথায় আমাদের দেশে প্রবেশের বিশেষ সুযোগ হারাতে হবে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, যাদের যুক্তরাজ্যে থাকার বৈধ অধিকার নেই, তাদের অবশ্যই নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যে গত কয়েক বছর ধরে অভিবাসন ইস্যুটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির বর্তমান লেবার সরকার অবৈধ অভিবাসন রোধে এবং আশ্রয়প্রার্থী নীতিতে সংস্কার আনতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। তারই অংশ হিসেবে এই ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো।