কিডনিতে পাথর হওয়া বা ‘নেফ্রোলিথিয়াসিস’ আগে শুধু বড়দের সমস্যা হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু আজকাল কমবয়সীদের মধ্যেও কিডনিতে পাথরের সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যাভ্যাস, পানিশূন্যতা এবং জীবনধারার পরিবর্তনই মূল কারণ।
কেন কমবয়সীদের কিডনিতে পাথর বেশি হচ্ছে?
১. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত চিনি ও লবণযুক্ত খাবার কমবয়সীদের মধ্যে ক্যালসিয়াম ও অক্সালেটের মাত্রা বাড়ায়, যা কিডনিতে পাথর গঠনের ঝুঁকি বাড়ায়।
২. পানির অভাব
কমবয়সীরা বিদ্যালয় বা কলেজে অনেক সময় পর্যাপ্ত পানি পান করে না। ডিহাইড্রেশন কিডনিতে ক্রিস্টাল জমা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
৩. অতিরিক্ত ডায়েট সাপ্লিমেন্ট ও প্রোটিন
অনেক তরুণ প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট বা ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট বেশি গ্রহণ করেন। এতে ইউরিক অ্যাসিড বা ক্যালসিয়াম বেশি হয়ে কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে।
৪. অ্যাকটিভিটি কম হওয়া
অত্যধিক স্ক্রিন টাইম এবং কম শারীরিক কার্যকলাপ কিডনির স্বাভাবিক ফাংশনকে প্রভাবিত করতে পারে।
৫. বংশগত কারণ
কিছু ক্ষেত্রে পরিবারে কিডনিতে পাথরের ইতিহাস থাকলে, সন্তানদেরও ঝুঁকি থাকে।
নিপুণ চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন: “কমবয়সীদের কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ফলে স্কুল, কলেজ এবং অফিসের শিক্ষার্থী ও তরুণরা সচেতন হতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ গুরুত্বপূর্ণ,” বলেন কিডনিস্পেশালিস্ট ডা. রিয়াজুল ইসলাম।
প্রতিরোধের সহজ উপায়
প্রতিদিন অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করা।
ফাস্ট ফুড ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা।
প্রোটিন ও ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট ডাক্তার পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা।
নিয়মিত ব্যায়াম ও খোলা বাতাসে হাঁটা।
কিডনির কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত নেফ্রোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া।
কমবয়সীরা এখন কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিতে বেশি। জীবনধারা পরিবর্তন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত পানি পান করলে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।