বোল্ড গ্যাজেট। লন্ডন: নোয়াখালী-৫: দীর্ঘদিনের হেভিওয়েট নেতৃত্বের অবসান ঘটিয়ে এক নতুন ও উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন চূড়ান্তভাবে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অনুপস্থিতি (ভারতে পলায়ন) এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের প্রয়াণে সৃষ্ট শূন্যতায় এই দুই নতুন মুখ এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অতীতের জোটবদ্ধ রাজনীতির সমীকরণ ভেঙে এবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সম্পূর্ণ আলাদাভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নেতাকর্মীদের মতে, নির্বাচনী মাঠে দল দুটির মধ্যে সমঝোতা হওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই, যা এই আসনে একটি তীব্র এবং বহুমাত্রিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষ করে জামায়াত এককভাবে তাদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে, যা বিএনপির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিএনপির প্রার্থী ফখরুল ইসলামকে দলের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং নানামুখী ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে। কবিরহাট উপজেলা বিএনপির একাংশ নেতা বজলুল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে সরব থাকলেও ফখরুল ইসলাম তার নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা এস আলম গ্রুপের সাথে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা কিংবা পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগকে তিনি সরাসরি ‘ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন।
ফখরুল ইসলাম দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন যে, তাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার হীন উদ্দেশ্যেই এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে এবং এর পেছনে একটি বিশেষ মহলের গভীর চক্রান্ত রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, এই ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে তৃণমূল নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত করবে।
তবে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের জোরালো প্রচারণা এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল—এই দুইয়ের চাপে নোয়াখালী-৫ আসনের ভোটের সমীকরণ দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
শেষ পর্যন্ত কোন দল এই মর্যাদাপূর্ণ আসনে জয়লাভ করে, তা এখন সারা দেশের রাজনৈতিক মহলের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে