আন্তর্জাতিক

ব্রিটিশরা না থাকলে মার্কিনিরা ফ্রেঞ্চে কথা বলতো, ট্রাম্পকে রাজার খোঁচা

Published

on

ব্রিটিশ রাজা-রানীর সম্মানে ট্রাম্প দম্পতির আয়োজিত নৈশভোজে হাজির হয়েছিলেন প্রযুক্তিখাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা। উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়াজগতের তারকাও। এমন এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ঔপনিবেশিক সময়কাল নিয়ে খোঁচা দিয়েছেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস।

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় মঙ্গলবারের নৈশভোজে বেশ খোশমেজাজে ছিলেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। আলাপচারিতার এক সময়ে রাজা চার্লস সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা মন্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন। ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেছিলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যদি সমর্থন না দিতো তাহলে এই অঞ্চলের মানুষ জার্মান ভাষায় কথা বলতে বাধ্য হতো।

ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে রাজা চার্লস বলেন, ‘কিছুটা সাহস নিয়েই বলছি, আমরা যদি না থাকতাম তাহলে আপনারা ফ্রেঞ্চ ভাষায় কথা বলতেন।’ ব্রিটিশ রাজা মূলত ঔপনিবেশিক শাসনামলের দিকে ইঙ্গিত করে এমন মন্তব্য করেছেন। এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের বড় একটি অংশ ফরাসিদের উপনিবেশ ছিল। প্রায় ২৫০ বছর আগে ব্রিটিশদের কাছে থেকে বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা লাভ করে। পরে ফরাসি উপনিবেশ থাকা অঞ্চলগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হয়।

রাজা ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের রসিকতার সময় নৈশভোজের টেবিলে সাজানো ছিল গার্ডেন ভেজিটেবল ভেলুতে ও ডোভার সোল মিউনিয়ের। এগুলো মূলত ফরাসি খাবার। শেষে পরিবেশন করা হয় হোয়াইট হাউসের মধু ও ভ্যানিলা বিন ক্রেম্যু। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন অ্যাপলের প্রধান টিম কুক, অ্যামাজনের জেফ বেজোস, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া দুইবারের মাস্টার্সজয়ী গলফার রোরি ম্যাকইলরয়।

চারদিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের দ্বিতীয় দিনে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসে বক্তব্য দেন রাজা তৃতীয় চার্লস। নৈশভোজে ট্রাম্প রাজার ভাষণের প্রশংসা করেন। বলেন, ‘বক্তব্যের সময় আপনি ডেমোক্র্যাটদের আসন ছেড়ে দাঁড়াতে বাধ্য করেছেন। আমি এতদিনেও এটা করতে পারিনি।’ 

কংগ্রেসে আইনপ্রণেতারা রাজাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। মঙ্গলবারের ভাষণে চার্লস যুক্তরাষ্ট্রকে পশ্চিমা মিত্রদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয় তুলে ধরেন। চার্লস আরও বলেন, ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়তে থাকা ইউক্রেনের জন্য ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে সবার অটল সংকল্প প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version