যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়: বিএনপি ও জামায়াত পরিচয়ে করা আবেদন এখন ব্যাপকহারে প্রত্যাখ্যান

Published

on

যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের (Asylum) ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে।

বিশেষ করে যারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বা সমর্থক পরিচয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন, সম্প্রতি তাদের আবেদনগুলো ব্যাপকহারে প্রত্যাখ্যান করছে ব্রিটিশ হোম অফিস।

একসময় এই ‘রাজনৈতিক গ্রাউন্ড’ ব্যবহার করে সহজে আশ্রয় মিললেও, বর্তমানে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ থেকে রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের মধ্যে একটি বড় অংশই নিজেদের বিএনপি কিংবা জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত দাবি করে আশ্রয়ের আবেদন জানান।

অতীতে বাংলাদেশে বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়নের যুক্তি দেখিয়ে অনেকে সফল হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে এই যুক্তিতে করা আবেদনগুলো আর ধোপে টিকছে না।

লন্ডনের একাধিক অভিবাসন আইনজীবী (Immigration Lawyer) জানিয়েছেন, হোম অফিস এখন প্রতিটি আবেদন অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে যাচাই-বাছাই করছে।

কেবল মৌখিক দাবি, দলীয় মিছিলে উপস্থিতির ছবি বা সাধারণ দলীয় পরিচয়পত্র এখন আর আশ্রয় পাওয়ার জন্য যথেষ্ট বিবেচিত হচ্ছে না। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ, মামলার নথিপত্র এবং ব্যক্তিগত জীবনে সরাসরি হুমকির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় অধিকাংশ আবেদন বাতিল (Refuse) করে দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি এবং বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট—উভয় কারণেই হোম অফিস তাদের সিদ্ধান্তে কঠোর হয়েছে।

যেসব আবেদনকারীর তথ্যে অসামঞ্জস্য পাওয়া যাচ্ছে, তাদের আবেদন সরাসরি নাকচ করা হচ্ছে। এমনকি আপিল (Appeal) করেও অনেকে ইতিবাচক ফলাফল পাচ্ছেন না।আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে যাওয়ায় ব্রিটেনে অবস্থানরত এই বিপুল সংখ্যক আশ্রয়প্রার্থী এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

বৈধতা না পাওয়ায় একদিকে যেমন কাজের সুযোগ নেই, অন্যদিকে দেশে ফেরত পাঠানোর (Deportation) আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version