জীবনের কঠিনতম সময়ে সুস্থ হওয়ার আশায় চিকিৎসকের ওপর ভরসা করেছিলেন। কিন্তু সেই আস্থাই যেন কাল হলো এক ব্যক্তির জন্য। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত এক ব্রিটিশ রোগীকে টানা ছয় বছর ধরে অপ্রয়োজনীয় কেমোথেরাপি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এই দীর্ঘ ও কষ্টদায়ক চিকিৎসার ফলে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া ওই রোগী এখন সংশ্লিষ্ট এনএইচএস (NHS) ট্রাস্টের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ঘটনার বিস্তারিত:
যুক্তরাজ্যের কভেন্ট্রি ও ওয়ারউইকশায়ার ইউনিভার্সিটি হসপিটালস এনএইচএস ট্রাস্টের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন ওই রোগী। তার চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক ইয়ান ব্রাউন নামক একজন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ। সাধারণত ব্রেন টিউমারের ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি একটি নির্দিষ্ট সময় বা চক্র (Cycle) পর্যন্ত দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, কোনো সঠিক কারণ ছাড়াই ওই রোগীকে টানা ছয় বছর ধরে ‘টেমোজোলোমাইড’ (Temozolomide) নামক শক্তিশালী কেমোথেরাপি ড্রাগ দেওয়া হয়েছে।
ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
দীর্ঘদিন ধরে অপ্রয়োজনীয় এই উচ্চমাত্রার ওষুধ সেবনের ফলে ওই ব্যক্তির শরীরে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। চরম ক্লান্তি (Chronic Fatigue), রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে গেছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদী কেমোথেরাপির ফলে শরীরে স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা এই রোগীর ক্ষেত্রে ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
আইনি লড়াই ও তদন্ত:
ভুক্তভোগী ওই রোগী এবং তার পরিবার এখন ব্র্যাবনার্স (Brabners) নামক একটি আইন সংস্থার মাধ্যমে আইনি লড়াই শুরু করেছেন। তদন্তে জানা গেছে, কেবল এই একজন রোগীই নন, অধ্যাপক ইয়ান ব্রাউনের অধীনে চিকিৎসা নেওয়া আরও অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই এমন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে কেয়ার কোয়ালিটি কমিশন (CQC) এবং রয়্যাল কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
আইনজীবীদের বক্তব্য:
আইনজীবী বেকি অ্যাডিসন জানিয়েছেন, “এটি একটি ভয়াবহ চিকিৎসা অবহেলা। অনেক রোগীকে বছরের পর বছর ধরে এমন বিষাক্ত ওষুধ দেওয়া হয়েছে যা তাদের কোনো প্রয়োজনই ছিল না। আমরা তাদের জন্য ন্যায়বিচার এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে কাজ করছি।”
এই ঘটনাটি ব্রিটেনের স্বাস্থ্যসেবা খাতে (NHS) বড় ধরনের চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসকের এমন অপেশাদার আচরণ এবং হাসপাতালের তদারকির অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
তথ্যসূত্র: মেট্রো ইউকে