Connect with us

বাংলাদেশ

অজ্ঞতা ও মৃত্যুর মাঝে সূক্ষ্ম সম্পর্ক!

Published

on

মনে করুন, আপনি সুস্থ আছেন, প্রতিদিনের কাজকর্মে পুরোপুরি সক্রিয় এবং বেশ সুস্থ অনুভব করছেন। তবে একদিন হঠাৎ করেই আপনি হারিয়ে ফেললেন আপনার প্রিয়জনকে, যারা নিজেদের সুস্থই মনে করেছিল। এমন এক মানুষ, যিনি একদিন মনে করতেন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ, কিন্তু বাস্তবে তাঁর ভিতরে একটি মারাত্মক রোগ লুকিয়ে ছিল, যা সময়মতো শনাক্ত করা হয়নি। এভাবেই অনেকের মৃত্যু ঘটে, যারা জানতেই পারেননি যে তারা কি ধরনের রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে স্বাস্থ্য বিষয়ে অজ্ঞতা, অসচেতনতা এবং রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো উপেক্ষা করা।

বাংলাদেশে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা নিজেদের শরীরের সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যান। বিভিন্ন ধরনের রোগের লক্ষণ, যেমন পেটের গোলমাল, মাইগ্রেন, ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা নিঃশ্বাসে অসুবিধা, প্রায়শই মানুষের কাছে ছোটখাটো সমস্যা মনে হয়। কিন্তু এই ছোট লক্ষণগুলোর মধ্যে যে বড় কোনো রোগ লুকিয়ে থাকতে পারে, তা অনেকেই বুঝে ওঠেন না। আরো ভয়াবহ ব্যাপার হলো, যারা সচেতন হন না, তারা সাধারণত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেও আগ্রহী হন না। ফলে, রোগটি আরও জটিল আকারে পরিণত হয়ে জীবনকে বিপদের মুখে দাঁড় করায়।

এভাবে, বাংলাদেশে প্রতিদিন অনেক মানুষ অজান্তে একটি রোগের সাথে লড়াই করছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ভাবছেন তারা সুস্থ আছেন, কিন্তু আসলে তাঁদের ভিতরেই কিছুটা অদৃশ্য, কিন্তু মারাত্মক সমস্যা বাসা বেঁধেছে। আমরা যতই প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত হই না কেন, শারীরিক অবস্থা এবং পরীক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের সচেতনতা অনেক কম। অনেক ক্ষেত্রে, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো কিংবা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরিদর্শনকে অবজ্ঞা করা হয়। অথচ, এসব ছোট ছোট পরীক্ষা আমাদের জীবন রক্ষা করতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) পরামর্শ দিয়েছে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে অজানা রোগের প্রাথমিক অবস্থার পরিচয় পাওয়া যায়, যা কোনো বড় বিপদের আগে চিকিৎসা নিতে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু, আমাদের দেশে এটি এক ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়ে, যেখানে মানুষ অনেক সময় ‘রোগের ভয়ে’ বা ‘টাকা নষ্ট হওয়ার চিন্তা’ করে পরীক্ষা করাতে চান না। একদিকে যেমন ডাক্তারদের কাছে যাওয়ার অভ্যস্ততা কম, তেমনি অন্যদিকে স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা সংকটও মারাত্মক।

অনেক রোগ রয়েছে, যেমন ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ইত্যাদি, যা প্রথম দিকে কোনো লক্ষণই প্রদর্শন করে না। রোগটি শরীরে ঢুকতে ঢুকতে অনেক সময় নেয়, তবে রোগের প্রাথমিক স্টেজে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এগুলো ধরা পড়লে সহজেই চিকিৎসা করা যায়। তবে, যারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে ভয় পান, তারা তাদের জীবনকে যে কীভাবে বিপদের মধ্যে ফেলছেন, তা অনেক সময় বুঝতে পারেন না।

শুধু কি রোগের অজ্ঞানতা? এর পাশাপাশি, আমাদের দেশে একটি বৃহত্তর সমস্যা হলো জীবনযাত্রার অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস। অতিরিক্ত ভাজা খাবার, সিগারেট খাওয়া, মদপান, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব—এসব কারণে মানুষের শরীরে রোগ প্রবেশ করার পথ সহজ হয়ে যায়। এরপরও, অনেকেই এসব বিষয়ে সচেতন হতে চান না। অবশেষে যখন কোনো গুরুতর সমস্যা শুরু হয়, তখনই তারা বুঝতে পারেন যে শুরুর দিকে যদি একটু সাবধানতা অবলম্বন করা হতো, তবে হয়তো এসব বড় বিপদ থেকে মুক্ত থাকা যেত।

আমরা যখন শরীরের প্রতি আরও যত্নবান হতে পারি, তখন শুধুমাত্র নিজের জীবনই রক্ষা করব না, পাশাপাশি আমাদের পরিবার ও সমাজের জন্যও নিরাপদ থাকতে পারব। কিন্তু, তার জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে পরীক্ষার অভ্যাস। আমাদের পরিবার, সমাজ এবং দেশের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। সরকার, স্বাস্থ্য সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—সব ক্ষেত্র থেকেই স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।

আমরা যদি চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণ করি এবং সঠিক সময়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাই, তাহলে রোগের প্রাথমিক অবস্থায় তার চিকিৎসা সম্ভব। বিশেষ করে, দেশে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য অবস্থা ও রোগের ব্যাপারে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগগুলোর মধ্যে একত্রিত প্রচারণা হওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন মিডিয়া ক্যাম্পেইন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

এছাড়া, আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নিয়মিত শরীরচর্চা, সঠিক খাবারের পছন্দ, মানসিক চাপ কমানো—এসব অভ্যাস আমাদের সুস্থ থাকার জন্য অপরিহার্য। একই সঙ্গে, শারীরিক অস্বস্তি কিংবা কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখলেই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। এগুলো ছোট ছোট পদক্ষেপ, কিন্তু এগুলোর মাধ্যমে আমরা আমাদের ভবিষ্যতকে সুরক্ষিত রাখতে পারব।

এছাড়া, সামাজিকভাবে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে হবে। যেহেতু আমাদের অনেকেই স্বাস্থ্য পরীক্ষার ভয়ে তা করেন না, তাদেরকে বুঝানো প্রয়োজন যে, এগুলো কেবল সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার জন্যই জরুরি নয়, বরং রোগের বিস্তার রোধ করতেও এটি সহায়ক। কোনো রোগ যদি প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে, তবে তা সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আইন - আদালত

কী আছে পিতা–মাতার ভরণপোষণ আইনে

Published

on

বাবা–মা বার্ধক্যে পৌঁছালে তাঁদের সেবাযত্ন ও দেখভাল করা প্রত্যেক সন্তানের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বৃদ্ধ বয়সে অনেক মা–বাবাই কষ্টে জীবনযাপন করেন। অবহেলার শিকার হয়েও সন্তানদের সুখের কথা ভেবে তাঁরা সবকিছু মেনে নেন। তবে তাঁরা কিছু না বললেও আমাদের দেশে বৃদ্ধ মা–বাবার ভরণপোষণ দেওয়ায় রয়েছে একটি আইনগত বাধ্যবাধকতা। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে ‘পিতামাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩’ নামে একটি আইন করা হয়েছে। আইনটি সম্পর্কে অনেকেরই কোনো ধারণা নেই। 

কী আছে আইনে

মা–বাবার ভরণপোষণ নিশ্চিত করা এবং তাঁদের সঙ্গে সন্তানের বসবাস বাধ্যতামূলক করার বিধান রেখে সরকার এই আইন করে। মা–বাবার ভরণপোষণ আইন ২০১৩-এর ৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক সন্তানকে তাঁর মা-বাবার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে এবং একাধিক সন্তান থাকলে প্রত্যেককে আলাপ–আলোচনার ভিত্তিতে ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে।’

আইনে আরও বলা হয়েছে, কোনো সন্তান তাঁর মা–বাবাকে অথবা উভয়কে তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বৃদ্ধাশ্রম কিংবা অন্য কোথাও একত্রে কিংবা আলাদাভাবে বাস করতে বাধ্য করতে পারবেন না। সন্তানেরা তাঁদের মা-বাবার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখবেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যা করবেন। 

শুধু তা–ই নয়, মা–বাবাকে নিয়মিত সঙ্গ প্রদান করার কথাও আইনে বলা আছে। কোনো সন্তানের স্ত্রী, ছেলেমেয়ে বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি সন্তানকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেন, তাহলে তাঁরাও একই অপরাধে অপরাধী হবেন। তাঁদেরও এই আইনের অধীন শাস্তির আওতায় আনা যাবে।

মা–বাবার ভরণপোষণ আইনের ৩(৭) ধারা অনুযায়ী, কোনো পিতা বা মাতা কিংবা উভয়ে, সন্তানদের সঙ্গে বসবাস না করে আলাদাভাবে বসবাস করলে, ওই পিতা বা মাতার প্রত্যেক সন্তান তার প্রতিদিনের আয়রোজগার, মাসিক আয় বা বার্ষিক আয় থেকে যুক্তিসংগত পরিমাণ অর্থ পিতা বা মাতা, বা ক্ষেত্রমতে দুজনকেই নিয়মিত প্রদান করবে। 

আইন না মানলে

কোনো ব্যক্তি মা–বাবার ভরণপোষণ আইন অমান্য করলে প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বিচার করা হবে। কোনো আদালত এ আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ বাবা বা মায়ের লিখিত অভিযোগ ছাড়া আমলে নেবেন না। আইনে আপস-নিষ্পত্তির ধারাও সংযুক্ত করা হয়েছে।
পিতা–মাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩-এর ৫ (১) ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো প্রবীণ তাঁর সন্তানদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আনেন এবং সে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদের ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে এই আইনের ব্যবহার আমাদের দেশে এখনো খুবই কম।

যদি সন্তান বেঁচে না থাকেন

২০১৩ সালে করা ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন’–এর নির্দেশনা অনুসারে ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ বিধিমালা ২০২৩’ তৈরি করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশে বাবা-মায়ের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সন্তান যাতে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করেন, তাঁদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেন এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধাশ্রমে না পাঠান, তা এই বিধিমালায় কঠোরভাবে বলা হয়েছে।

কোনো সন্তান যদি কোনোভাবেই মা-বাবাকে নিজের কাছে রেখে ভরণপোষণ করতে না পারেন, তবে বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি বা বেসরকারি পরিচালিত ‘পরিচর্যাকেন্দ্রে’ রেখে তাঁদের পরিচর্যার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মা-বাবার কোনো সন্তান জীবিত না থাকলে বা ভরণপোষণের মতো কেউ না থাকলে, পিতা-মাতা ভরণপোষণ কমিটি তাঁদের পরিচর্যাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিধিমালায় অসহায় মা–বাবার সহায়তার জন্য সরকারি অনুদান এবং দেশি-বিদেশি সহায়তায় একটি ‘ভরণপোষণ তহবিল’ গঠনের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।

Continue Reading

সারাদেশ

পাটওয়ারীর ওপর হামলা, ছাত্রদল নেতাসহ ৮ জনের নামে মামলা

Published

on

Continue Reading

সারাদেশ

ধর্ষণ মামলায় জেলে ইমাম, ডিএনএ পরীক্ষায় ধরা আসল অভিযুক্ত

Published

on

ফেনীর পরশুরামের বক্সমাহমুদে এক কিশোরীকে (সিমি-ছদ্মনাম) ধর্ষণের মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন অভিযুক্ত ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫)। ফরেনসিক পরীক্ষায় ওই কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে মোজাফফরের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়নি।

উল্টো ডিএনএ টেস্টের পর ধরা পড়েছে আসল অভিযুক্ত। খোদ সিমিরই বড়ভাই মোরশেদের ডিএনএর সঙ্গে তার সন্তানের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, তিনিই ঘটিয়েছেন এই ন্যক্কারজনক কাণ্ড। 

আর নিজের অপরাধ ঢাকতে তিনি এই দোষ চাপান মোজাফফরের ওপর, যার জেরে এই ইমামকে এক মাস দুই দিন খাটতে হয় জেল।

ফরেনসিক পরীক্ষাসহ তদন্ত শেষে গত ১৭ এপ্রিল মামলা থেকে মোজাফফরকে অব্যাহতি দিয়ে এবং মোরশেদকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে পুলিশ। অব্যাহতি সংক্রান্ত নথি হাতে আসার পর তা গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেছেন মোজাফফর।

মোজাফফর আহমদ বলেন, অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। এ ঘটনায় আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছি। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি। মামলার খরচ চালাতে বাড়ির পাশে মূল্যবান জায়গা বিক্রি করে দিয়েছি, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমি কারাভোগ, সামাজিক মর্যাদাহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ চাই।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর সিমির মক্তবের শিক্ষক মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করে সিমির পরিবার। তখন ইমাম মোজাফফর এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন দাবি করেন। এই পরিস্থিতিতে মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান তিনি।

মিথ্যা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে মামলা করতে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ফেনীর আদালতে যান মোজাফফর। 

এসময় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রামের মাতব্বর ও সিমির মা মোজাফফরকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেন। এরপর এক মাস দুই দিন কারাভোগ করেন মোজাফফর। ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর জামিনে বেরিয়ে মোজাফফর নামেন আইনি লড়াইয়ে।

এদিকে ওই বছরের ২২ ডিসেম্বর অভিযুক্ত মোজাফফরকে ঢাকার মালিবাগে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বশরীরে এবং সিমির সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ফরেনসিক ল্যাবরেটরি থেকে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি পরশুরাম মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের কাছে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়, পরীক্ষায় ভ্যাজাইনাল সোয়াবে পুরুষের বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ভ্যাজাইনাল সোয়াবে বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত না হওয়ায় মোজাফফরের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে তুলনা করে মতামত প্রদান করা সম্ভব নয়। মামলার ভিকটিম ও তার সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যা সন্তানের জৈবিক পিতা নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার নিমিত্তে ভিকটিম ও তার সন্তানকে পরীক্ষাগারে উপস্থিত হয়ে ডিএনএর নমুনা প্রদানের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়।

এদিকে, ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন ফেনীতে এলে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে। কিশোরী সিমিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে সে জানায়, তাকে তার সহোদর ভাই মোরশেদই তাকে টানা ধর্ষণ করেন। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে মোরশেদকে ধর্ষণের দায় থেকে বাঁচাতে সিমির পরিবার মক্তব শিক্ষক ও ইমাম মোজাফফরকে ফাঁসায়। 

২০২৫ সালের ১৯ মে সিমিকে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বড় ভাই মোরশেদকে (২২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মোরশেদ পরিবারের অগোচরে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ২০ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

Continue Reading

Trending

Copyright © 2026 Bold Gazette বাংলা, powered by Bold Gazette Media Limited UK.