ফেনীর পরশুরামের বক্সমাহমুদে এক কিশোরীকে (সিমি-ছদ্মনাম) ধর্ষণের মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন অভিযুক্ত ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫)। ফরেনসিক পরীক্ষায় ওই কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে মোজাফফরের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়নি।
উল্টো ডিএনএ টেস্টের পর ধরা পড়েছে আসল অভিযুক্ত। খোদ সিমিরই বড়ভাই মোরশেদের ডিএনএর সঙ্গে তার সন্তানের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, তিনিই ঘটিয়েছেন এই ন্যক্কারজনক কাণ্ড।
আর নিজের অপরাধ ঢাকতে তিনি এই দোষ চাপান মোজাফফরের ওপর, যার জেরে এই ইমামকে এক মাস দুই দিন খাটতে হয় জেল।
ফরেনসিক পরীক্ষাসহ তদন্ত শেষে গত ১৭ এপ্রিল মামলা থেকে মোজাফফরকে অব্যাহতি দিয়ে এবং মোরশেদকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে পুলিশ। অব্যাহতি সংক্রান্ত নথি হাতে আসার পর তা গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেছেন মোজাফফর।
মোজাফফর আহমদ বলেন, অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। এ ঘটনায় আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছি। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি। মামলার খরচ চালাতে বাড়ির পাশে মূল্যবান জায়গা বিক্রি করে দিয়েছি, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমি কারাভোগ, সামাজিক মর্যাদাহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ চাই।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর সিমির মক্তবের শিক্ষক মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করে সিমির পরিবার। তখন ইমাম মোজাফফর এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন দাবি করেন। এই পরিস্থিতিতে মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান তিনি।
মিথ্যা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে মামলা করতে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ফেনীর আদালতে যান মোজাফফর।
এসময় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রামের মাতব্বর ও সিমির মা মোজাফফরকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেন। এরপর এক মাস দুই দিন কারাভোগ করেন মোজাফফর। ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর জামিনে বেরিয়ে মোজাফফর নামেন আইনি লড়াইয়ে।
এদিকে ওই বছরের ২২ ডিসেম্বর অভিযুক্ত মোজাফফরকে ঢাকার মালিবাগে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বশরীরে এবং সিমির সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ফরেনসিক ল্যাবরেটরি থেকে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি পরশুরাম মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের কাছে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাঠানো হয়।
এতে বলা হয়, পরীক্ষায় ভ্যাজাইনাল সোয়াবে পুরুষের বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ভ্যাজাইনাল সোয়াবে বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত না হওয়ায় মোজাফফরের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে তুলনা করে মতামত প্রদান করা সম্ভব নয়। মামলার ভিকটিম ও তার সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যা সন্তানের জৈবিক পিতা নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার নিমিত্তে ভিকটিম ও তার সন্তানকে পরীক্ষাগারে উপস্থিত হয়ে ডিএনএর নমুনা প্রদানের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়।
এদিকে, ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন ফেনীতে এলে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে। কিশোরী সিমিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে সে জানায়, তাকে তার সহোদর ভাই মোরশেদই তাকে টানা ধর্ষণ করেন। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে মোরশেদকে ধর্ষণের দায় থেকে বাঁচাতে সিমির পরিবার মক্তব শিক্ষক ও ইমাম মোজাফফরকে ফাঁসায়।
২০২৫ সালের ১৯ মে সিমিকে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বড় ভাই মোরশেদকে (২২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মোরশেদ পরিবারের অগোচরে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ২০ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।